মূল অংশে যান
HangeulBondhuবাংলায় কোরিয়ান, একসঙ্গে শিখি
EPS · E-9

বাংলাদেশ থেকে EPS-এ কোরিয়া: E-9 ভিসার পুরো পথ

EPS (Employment Permit System, 고용허가제) হলো সরকারি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা E-9 ভিসায় কোরিয়ায় কাজে আসেন। বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া চালায় সরকারি প্রতিষ্ঠান BOESL; কোনো দালালের দরকার নেই।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬
৪০প্রশ্নEPS-TOPIK: পড়া ২০ + শোনা ২০
৫০মিনিটপরীক্ষার মোট সময়
৪ বছর ১০ মাসপ্রথম দফায় সর্বোচ্চ থাকা
৮০,০০০জন২০২৬ সালে E-9-এর মোট কোটা
এক নজরে
  • বাংলাদেশে একমাত্র পাঠানো প্রতিষ্ঠান BOESL (সরকারি)।
  • সাধারণ যোগ্যতা: বয়স ১৮–৩৯, গুরুতর অপরাধের রেকর্ড নেই, আগে কোরিয়া থেকে বহিষ্কৃত হননি।
  • EPS-TOPIK: ৪০ প্রশ্ন (পড়া ২০ + শোনা ২০), ৫০ মিনিট, কম্পিউটারে।
  • প্রথমে ৩ বছর, পুনঃনিয়োগে আরও ১ বছর ১০ মাস — মোট সর্বোচ্চ ৪ বছর ১০ মাস।

ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

BOESL নিবন্ধন থেকে কোরিয়ায় কাজ শুরু
  1. ১
    BOESL-এ অনলাইন নিবন্ধনবাংলাদেশ

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন।

  2. ২
    লটারি

    আবেদনকারী বেশি হলে পরীক্ষার্থী বাছাই।

  3. ৩
    EPS-TOPIKভাষা পরীক্ষা

    কম্পিউটারে ৪০ প্রশ্ন, ৫০ মিনিট।

  4. ৪
    স্কিল টেস্ট ও মেডিক্যাল

    শারীরিক সক্ষমতা, সাক্ষাৎকার, মৌলিক দক্ষতা।

  5. ৫
    চাকরিপ্রার্থীর তালিকা (রোস্টার)HRD Korea

    সাধারণত ২ বছর বৈধ।

  6. ৬
    মালিকের বাছাই ও চুক্তি

    কোরিয়ার মালিক তালিকা থেকে বেছে নেন।

  7. ৭
    ভিসা

    사증발급인정서 → ঢাকার দূতাবাসে E-9 ভিসা।

  8. ৮
    কোরিয়ায় পৌঁছে প্রশিক্ষণকোরিয়া

    ১৫ দিনের মধ্যে ২ রাত ৩ দিন, তারপর কাজ শুরু।

উৎস: BOESL, HRD Korea ও সংবাদ প্রতিবেদন অবলম্বনে

ওপরের প্রতিটি ধাপের ঘোষণা ও সময়সূচি BOESL দেয়। কোরিয়া যাওয়ার আগে দেশে প্রশিক্ষণ হয়, আর কোরিয়ায় পৌঁছে ১৫ দিনের মধ্যে অন্তত ১৬ ঘণ্টার কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ নিতে হয়।

রোস্টারে নাম ওঠা মানেই চাকরি নিশ্চিত নয়। কোরিয়ার মালিকেরা তালিকা থেকে বেছে নেন, BOESL বা কোনো দালাল এটা নিশ্চিত করতে পারে না। কেউ টাকা নিয়ে "নিশ্চিত চাকরি" দেওয়ার কথা বললে সাবধান থাকুন।

যোগ্যতা

  • নিবন্ধনের সময় বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছর।
  • কারাদণ্ড বা তার চেয়ে গুরুতর শাস্তির অপরাধের রেকর্ড নেই।
  • আগে কোরিয়া থেকে বহিষ্কৃত বা জোর করে ফেরত পাঠানো হয়নি।
  • দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা নেই।
  • আগে E-9/E-10 ভিসায় কোরিয়ায় মোট থাকার সময় ৫ বছরের কম।
  • বর্ণান্ধতা, যক্ষ্মা বা নির্দিষ্ট কিছু রোগ থাকলে বাদ পড়তে পারেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে BOESL জানায়; আবেদনের আগে সেটি দেখে নিন।

EPS-TOPIK পরীক্ষা

  • কম্পিউটারে পরীক্ষা: ৪০ প্রশ্ন — পড়া ২০টি ও শোনা ২০টি, মোট ৫০ মিনিট, বিরতি ছাড়া।
  • সব প্রশ্ন চার বিকল্পের; ভুল উত্তরে নম্বর কাটা হয় না।
  • খাত অনুযায়ী (উৎপাদন, কৃষি, মৎস্য ইত্যাদি) ন্যূনতম নম্বর আলাদা; উৎপাদন খাতে শর্ত সবচেয়ে কড়া।
  • ন্যূনতম নম্বর পেলেও সবাই নির্বাচিত হন না; কোটার তুলনায় নম্বর অনুযায়ী বাছাই হয়। তাই যত বেশি নম্বর, তত ভালো।

পুরোনো অনেক বইয়ে ৫০ প্রশ্ন, ৭০ মিনিটের কাঠামো লেখা আছে — সেটা এখন আর চলে না। HRD Korea-র বিনামূল্যের বাংলা সংস্করণের স্ট্যান্ডার্ড টেক্সটবুক দিয়ে পড়ুন।

খাত ও কোটা

বাংলাদেশিদের জন্য প্রধানত উৎপাদন (manufacturing) খাত খোলা; বিভিন্ন বছরে নির্মাণ, কৃষি ও মৎস্য খাতেও সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। কোন বছর কোন খাত খোলা, তা BOESL-এর বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।

কোরিয়া ২০২৬ সালে সারা বিশ্ব থেকে E-9 কর্মীর মোট কোটা কমিয়ে ৮০,০০০ করেছে (২০২৫ সালে ছিল ১,৩০,০০০)। ফলে প্রতিযোগিতা বেশি — ভালো নম্বর আরও জরুরি।

কোরিয়ার মোট E-9 কোটা (সব দেশ মিলিয়ে)
২০২৫১৩০,০০০ জন
২০২৬৮০,০০০ জন
উৎস: কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা, ডিসেম্বর ২০২৫ (Newsis)
বাংলাদেশ: কোটা বনাম বাস্তবে পাঠানো কর্মী
বাংলাদেশের কোটাবাস্তবে গেছেন
২০২৩
১০,২০০
৪,৮০৪
২০২৪
১১,৭০০
২,৭৭৯
২০২৫ (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)
১০,৩০০
১,২৪৪
উৎস: বণিক বার্তা, সেপ্টেম্বর ২০২৫

কোরিয়ায় থাকার মেয়াদ ও কর্মস্থল বদল

  • মেয়াদ: প্রথমে ৩ বছর; একই মালিক পুনঃনিয়োগ করলে আরও ১ বছর ১০ মাস — মোট ৪ বছর ১০ মাস।
  • কর্মস্থল বদল: প্রথম ৩ বছরে সর্বোচ্চ ৩ বার, বাড়তি মেয়াদে ২ বার, সাধারণত নিজের অঞ্চল ও খাতের মধ্যে। বেতন না পাওয়া, নির্যাতন, কোম্পানি বন্ধ — এমন নিজের দোষ নয় এমন কারণে বদলালে এই সীমা গণনা হয় না। বদল হয় স্থানীয় Employment Center (고용센터)-এর মাধ্যমে।
E-9-এ সর্বোচ্চ কত দিন থাকা যায় (মাসে, আনুপাতিক)
  1. প্রথম চুক্তি: ৩ বছর
  2. পুনঃনিয়োগ: ১ বছর ১০ মাস
  3. দেশে বিরতি (কমপক্ষে ১ মাস)
  4. "সৎ কর্মী" হিসেবে আবার: ৪ বছর ১০ মাস
উৎস: কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অবলম্বনে

"সৎ কর্মী" হিসেবে আবার ফেরা (재입국 특례)

মেয়াদ শেষে কিছু শর্তে আবার কোরিয়ায় ফিরে আরও ৪ বছর ১০ মাস কাজ করা যায় — মোট প্রায় ৯ বছর ৮ মাস।

  • নিজের দোষে কর্মস্থল বদল ২ বারের বেশি নয়, কোনো আইন ভঙ্গ নেই।
  • একই মালিক দেশে ফেরার আগে আবেদন করলে ১ মাস পরেই ফেরা যায় (নইলে ৬ মাস)।
  • এই সুযোগ একবারই পাওয়া যায়।

এই নিয়মের সময়সীমা আগেও বদলেছে, আর দেশে না ফিরেই পুনঃনিয়োগের মতো পরিবর্তনের প্রস্তাব আলোচনায় আছে। আবেদনের আগে Employment Center বা ১৩৪৫-এ সর্বশেষ নিয়ম জেনে নিন।

আরও দীর্ঘ মেয়াদে থাকতে চাইলে পরের ধাপ হলো দক্ষ কর্মীর ভিসা: E-9 থেকে E-7-4 গাইড।

এখানে কোরিয়ান ভাষা কেন জরুরি

EPS-এ কে আসবেন, তা প্রথম ধাপেই ঠিক হয় EPS-TOPIK-এর নম্বরে। আর কোরিয়ায় আসার পর কোরিয়ান ভাষাই ঠিক করে দেয় আপনি E-7-4-এ যেতে পারবেন কি না। HangeulBondhu-এর EPS-TOPIK কোর্সে বাংলা ব্যাখ্যা আর বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যবই দিয়ে প্রস্তুতি নিন।

EPS-TOPIK কোর্স দেখুন →

সাধারণ প্রশ্ন

EPS-এ যেতে কি দালাল লাগে?

না। বাংলাদেশে EPS-এর একমাত্র পাঠানো প্রতিষ্ঠান সরকারি BOESL। নিবন্ধন, লটারি, পরীক্ষা সবকিছুর ঘোষণা BOESL দেয়।

EPS-TOPIK-এ পাস করলে কি চাকরি নিশ্চিত?

না। পাস করলে নাম চাকরিপ্রার্থীর তালিকায় ওঠে (সাধারণত ২ বছর বৈধ)। কোরিয়ার মালিক তালিকা থেকে বেছে নিলে তবেই চুক্তি ও ভিসা হয়।

E-9 ভিসায় কত বছর থাকা যায়?

প্রথমে ৩ বছর, পুনঃনিয়োগে আরও ১ বছর ১০ মাস। শর্ত পূরণ করলে "সৎ কর্মী" হিসেবে একবার ফিরে আরও ৪ বছর ১০ মাস কাজ করা যায়।

সরকারি উৎস

বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুনFacebook
প্রশ্ন করুন